কলকাতা, ২৯ মার্চ ২০২৬: বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় আর আমাদের মধ্যে নেই। দীঘায় শুটিং করতে গিয়েছিলেন অভিনেতা। তালসারিতে সমুদ্রে নামতেই দুর্ঘটনা। জলে তলিয়ে যান তিনি। উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
অভিনেতার এই আকস্মিক মৃত্যুর খবর অনেকেই এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না। সামাজিক মাধ্যমে শোকের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে। অভিনেতার অকাল মৃত্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “রাহুলের হঠাৎ চলে যাওয়া বাংলা অভিনয় জগৎ, টলিউড ও টেলিভিশন জগতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।”
তিনি আরও লিখেছেন, “প্রতিভাবান, তরুণ ও জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় আর আমাদের মধ্যে নেই—এই খবর শুনে আমি স্তব্ধ ও শোকাহত। কীভাবে এমন হল, তা ভাবতেই পারছি না।” তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য অনুরাগীর প্রতি সমবেদনা জানান।
মাত্র ৪৩ বছর বয়সে তাঁর এই অকাল প্রয়াণে টলিউড থেকে নাট্যজগৎ—সবখানেই নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। মৃত্যুর সময় তিনি একটি জনপ্রিয় ধারাবাহিকে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করছিলেন।
১৯৮৩ সালের ১৬ অক্টোবর তাঁর জন্ম। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক ছিল। মাত্র তিন বছর বয়সেই তিনি তাঁর বাবা বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাট্যদলের সঙ্গে মঞ্চে অভিনয় শুরু করেন। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি ৪৫০টিরও বেশি নাটকে অংশ নিয়েছেন।
২০০৮ সালে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির মাধ্যমে তিনি রাতারাতি জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যান। এরপর ‘চতুষ্কোণ’ ও ‘ব্যোমকেশ ফিরে এল’সহ একাধিক ছবিতে নিজের দক্ষতার ছাপ রেখেছেন। পাশাপাশি টেলিভিশনের বিভিন্ন ধারাবাহিক এবং ওয়েব ধারাবাহিকেও তিনি সমান স্বচ্ছন্দ ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে সহঅভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার-এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও বহু আলোচনা হয়েছে। বিচ্ছেদের পর পুনরায় একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত তাঁদের জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল।

No comments:
Post a Comment