নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর: বিধানসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্য-রাজনীতি। উত্তপ্ত কেশপুর। ইনডোর বৈঠক সেরে বেরোতেই বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। আহত অবস্থায় ৮ জন বিজেপি কর্মীকে নিয়ে আসা হয় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর ব্লকের ৭ নম্বর অঞ্চলের অন্তর্গত রামাকাটা এলাকায় একটি আভ্যন্তরীণ বৈঠকের আয়োজন করে বিজেপি নেতৃত্ব। অভিযোগ, বৈঠক শেষ হওয়ার পর বিজেপি কর্মীরা যখন বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন, ঠিক সেই সময় তাদের ওপর বাঁশ, লাঠি ও রড নিয়ে হামলা চালানো হয়। বেশ কিছু বাইক ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ বিজেপি নেতৃত্বর। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চোট পায় বিজেপি কর্মীরা। আহতদের উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
কেশপুরের বিজেপি নেত্রী সোনালি ওঝার জানান, আমাদের অভ্যন্তরীণ বৈঠক চলাকালীন প্রথমে ওরা এসে ভিডিও করে যায়। তার কিছুক্ষণ পর তারা লাঠি, রড নিয়ে এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা ওখান থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে রাস্তায় ঘিরে ধরে বাইক ভাঙচুর করে। কোনও রকমে ওখান থেকে আমরা বেরিয়ে আসি। তৃণমূল বুঝতে পেরেছে কেশপুরে তাঁদের পায়ের তলার মাটি শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই বিজেপিকে মেরে ধরে আটকানোর চেষ্টা করছে। কোনও দিন বিজেপিকে আটকানো সম্ভব নয় তৃণমূল নেতারা জেনে রাখুন।
অন্যদিকে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানান কেশপুরে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব মহম্মদ রফিক। তিনি বলেন, বিজেপির নেতারা জঙ্গলে পিকনিক করছিল, নিজেদের মধ্যে অন্তঃকলহ হয়েছে। সেখান থেকে ফেরার পথে রাস্তায় মদ খেয়ে মেয়েদেরক টোন-টিটকিরি করেছিল সেই সময় একটা গণ্ডগোল বাঁধে। যদিও এই ঘটনাকে নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি পুলিশের কাছে। বিজেপি কর্মী সমর্থকরা রাতেই এসপি অফিসের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

No comments:
Post a Comment