একই পরিবারের তিন জনের রহস্য মৃত্যু - Breaking Bangla |breakingbangla.com | Only breaking | Breaking Bengali News Portal From Kolkata |

Breaking

Post Top Ad

Friday, 4 June 2021

একই পরিবারের তিন জনের রহস্য মৃত্যু

  


 হাবরা থানার দক্ষিন হাবরার এস এন দে রোড এলাকায় একই পরিবারের তিন জনের রহস্য মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল । তবে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোট থেকে অনুমান পারিবারিক অশান্তির জেরেই তিন জনের রহস্য মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যু হয়েছে স্বামী স্ত্রী এবং  সাত বছরের বাচ্চার।এদিন ঘর থেকে তিন জনেরই দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।পুলিশ জানিয়েছে মৃতরা হলেন স্বামী প্রকাশ বিশ্বাস(৪৫), স্ত্রী শম্পা বিশ্বাস(৩২) এবং সাত বছরের ছেলে রিন্টু বিশ্বাস। খাটের উপরেই ছিল প্রকাশ এবং রিন্টুর দেহ। ঘরেই  ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল শম্পা।


 তিন জনের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করেছে হাবরা থানার পুলিশ।পারিবারিক  এবং এক প্রতিবেশীর সাথে অশান্তির কথা সুইসাইড নোটে লেখা রয়েছে বলেই পুলিশ জানতে পেরেছে।একই পরিবারের তিন জনের রহস্যমৃত্যু নিয়ে ধোয়াশা তৈরী হয়েছে।স্বামী এবং বাচ্চাকে মেরে শম্পা নিজে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে পুলিশ এবং স্থানীয়রা। এই মৃত্যুর পিছনে অন্য কোন কারন আছে কি না,তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।পুলিশ জানিয়েছে একটা অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে।


ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই মৃত্যুর আসল কারন জানা যাবে।বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে হাবরা থানার পুলিশ।মৃত প্রকাশ বিশ্বাস পেশায় রাজমিস্ত্রী ছিলেন। থাকতেন দক্ষিন হাবরার এস এন দে রোডে।প্রকাশ এর আগেও একটা বিয়ে করেছিলেন।প্রথম পক্ষের স্ত্রী এবং মেয়েও  থাকা সত্বেও ফের দ্বিতীয় বিয়ে করে প্রকাশ।শম্পার সাত বছরের ছেলে নিয়েই তাকে বিয়ে করেছিল পেশায় রাজমিস্ত্রী প্রকাশ।অভাবের সংসার তাদের। পৈত্রিক বাড়িতে বাবা মায়ের সাথেই ছিল প্রকাশ।


দ্বিতীয় পক্ষের বিয়ের পর শুরু হয় পারিবারিক অশান্তি।পারিবারিক অশান্তির জেরেই বছর দুই আগে প্রকাশের বাবা, মা অন্য জায়গায় ভাড়া নিয়ে চলে গিয়েছিলেন।গত দুই বছর ছেলে,বৌয়ের সাথে কোন সম্পর্ক ছিল না তাদের। এলাকার প্রতিবেশীদের সাথেও ভালো সম্পর্ক ছিল না বিশ্বাস পরিবারের। করোনার এই পরিস্থিতিতে রাজমিস্ত্রীর কাজও প্রায় বন্ধ ছিল।  অভাবের সংসার সামাল দিতে শম্পা জবা ফুলের মালা বিক্রি করতেন। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে দিন দশ ধরে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন প্রকাশ। শ্বাসকষ্টও ছিল।কিন্তু করোনার কোন পরিক্ষা করান নি তারা। 


পরিচিত কয়েক জন কিছু সাহায্য করতেন বলেই স্থানীয় সুত্রে জানা গেছেমঙ্গলবার সকালের দিকে ঘর থেকে স্বামী, স্ত্রী এবং তাদের সাত বছরের বাচ্চার দেহ উদ্ধার করেছে হাবরা থানার পুলিশ। একই পরিবারের তিনজনের রহস্য মৃত্যু নিয়ে ধোয়াশা তৈরী হয়েছে এলাকায়।  এদিন ঘর থেকে তিন জনের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে হাবরা থানার পুলিশ। ঘর থেকে একটা সুসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ।তাতে পরিবার এবং এক প্রতিবেশীর সাথে অশান্তির কথা লেখা রয়েছে বলেই পুলিশ সুত্রে জানা গেছে।


সুসাইড নোটের হাতের লেখা কার,সেটা পরিক্ষা করে দেখতে চাইছে পুলিশ।পুলিশ সুত্রে জানা গেছে সাত বছরের রিন্টু এবং প্রকাশের মুখ দিয়ে গ্যাজলা বের হচ্ছিল। এদের দুজনের মৃত্যু বিষক্রিয়ায় হতে পারে বলেই ধারনা। তাতেই অনুমান করা হচ্ছে  স্বামী এবং ছেলেকে মেরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন শম্পা।  মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেই ছেলের বাড়িতে আসেন বাবা, মা এবং প্রকাশের এক বোন।ছেলের শোকে অঝরে কেদে চলেছেন মা। মৃতের বাবা ফটিক বিশ্বাস বলেন ছেলে এর আগেও বিয়ে করেছিল।এটা ওর দ্বিতীয় বিয়ে। সাত বছরের ছেলে সমেত শম্পাকে বিয়ে করে।


বিয়ের পরেই আমাদের সাথে অশান্তি করত।শেষে আর সহ্য করতে না পেরে দুই বছর আগে এখান থেকে চলে যাই।এই দুবছরে আমরা একদিনের এখানে আসি নি।উল্টে ছেলে আমার ভাড়া বাড়িতে গিয়ে জমি লিখিয়ে দেওয়ার চাপ  দিত।মারধর করত।এমনকি প্রান নাশের হুমকিও দিয়েছিল।ছেলে বৌমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও করেছি।স্থানীয় বাসিন্দা বিরুপ সিকদার বলেন প্রতিবেশীদের সাথে কোন সম্পর্ক রাখত না।প্রকাশের দিন কয়েক আগে জ্বর হয়েছিল।


করোনা হয়েছিল বলেই অনুমান।তবে সোমবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ বাড়ির সামনের রাস্তায় প্রকাশের স্ত্রীকে রাস্তায় দেখেছিলাম।কিন্তু কিভাবে তাদের মৃত্যু হল সেটা বলতে পারব না।হাবরা পুরসভার প্রশাসক নিলিমেশ দাস বলেন মৃত প্রকাশের জ্বর হয়েছিল বলে শুনেছি।কিন্তু পুরসভাকে জানানো হয় নি।তার করোনার পরিক্ষাও হয় নি।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad