মানা হচ্ছে না সরকারি নির্দেশিকা, বেলাগাম নার্সিংহোম - Breaking Bangla |breakingbangla.com | Only breaking | Breaking Bengali News Portal From Kolkata |

Breaking

Post Top Ad

Saturday, 22 May 2021

মানা হচ্ছে না সরকারি নির্দেশিকা, বেলাগাম নার্সিংহোম

  


 কোভিড রুগীর জন্য শয্যা পেতে হলে চাই অগ্রিম এক লক্ষ টাকা! রুগীর পরিবারকে কাছে সরাসরি দাবি শিলিগুড়ি কলেজ পাড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালের। দিশেহারা হয়ে রুগী পরিজনেরা  সরকারি নির্দেশিকা কলেজপাড়ার ওই বেসরকারি হাসপাতালকে মনে করালেও, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাফ মন্তব্য-শয্যা নেই, করোনা রুগী বা কোভিড উপসর্গযুক্ত রুগীর জন্য শয্যা প্রয়োজন হলে অগ্রীম নগদে ৯০হাজার টাকা এক্ষুনি জমা করতে হবে।


 নইলে ভর্তি করা হবে না রুগীকে। যেখানে ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি পুর প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান গৌতম দেব দুই দফায় বেসরকারী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। স্বাস্থ্য সাথী কার্ডকে মান্যতা দেওয়া সহ বেসরকারি নার্সিং হোমগুলির অনিয়ন্ত্রিত বিলের ওপর লাগাম টানা এবং ৫০হাজার টাকার অধিক কোনো নার্সিংহোম অগ্রীম নিতে পারবেন না তা জানান। জেলাপ্রশাসনের  গঠন করা হয়েছে টাস্কফোর্সও। তবে তারপরও শহরের বেসরকারি নার্সিংহোমগুলি নিত্যদিন চালিয়ে যাচ্ছে বানিজ্যিক স্বার্থসিদ্ধির নৈরাজ্য। এমনই ঘটনার সাক্ষী শিলিগুড়ি ১৭নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।


মুমূর্ষু করোনা রুগীকে নিয়ে নার্সিংহোমের চাপে দিশেহারা হতে হয় ১৬ই মে রাতে ১৭নাম্বার ওয়ার্ডেরই বাসিন্দা রুগী পরিজনেদের। করোনা আক্রান্তের পরিবারের এক যুবতীর অভিযোগ রুগী উপসর্গ দেখা দিলে আমরা তাকে তড়িঘড়ি কলেজপাড়ার ওই হাসপাতালে নিয়ে যাই। স্বাস্থ্য দপ্তরের ওয়েব সাইটে আমরা দেখি ওই হাসপাতালে শয্যা ফাঁকা রয়েছে। তবে সেখানে পৌঁছলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমেই জানান কোভিড শয্যা ফাঁকা রয়েছে কিনা তা দেখতে হবে। সে সময় রুগীর পরিবার বেসরকারি হাসপাতালকে স্বাস্থ্য দপ্তরের ওয়েব সাইট খুলে দেখান সেখানে সাফ লেখা রয়েছে বেশ কয়েকটি কোভিড শয্যা খালি রয়েছে ওই নার্সিংহোমে। এরপর তারা জানান করোনা উপসর্গযুক্ত রুগীকে ভর্তি করতে হলে ৯০হাজার টাকা অগ্রীম জমা করতে হবে। রুগী পরিবার অসহায় অবস্থায় জানায় এতগুলো টাকা একসঙ্গে  জোগাড় করা সম্ভব নয়।  প্রথমে ৬৬হাজার টাকা নগদে জমা করেন তারা। তবে তাতেও রুগীকে ভর্তি করতে অস্বীকার করে ওই হাসপাতাল।  


রুগী পরিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আবেদন করেন চিকিৎসা শুরু করুন বাকি ২৪হাজার টাকা ব্যবস্তা করছি। সরকারি নির্দেশিকায় তো স্পষ্ট বলা রয়েছে ৫০হাজার টাকার বেশী অগ্রিম নেওয়া যাবে না। এরপরও মুমূর্ষ  রুগীকে ভর্তি না নিয়ে হাসপাতালের বাইরেই ফেলে রাখা হয়। যুবতীর বয়ান ওই রুগী সম্পর্কে তার মামী, তাঁর শারিরীক অবস্থা গুরুতর হওয়ার পর তাকে ভর্তি না নিয়ে ফেলা রাখা হলে বাধ্য হয়ে আরও বাকি ২৪হাজার টাকা অনলাইনে হাসপাতালে জমা করা হয়। 


এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় এই অগ্রীম টাকা  ৯০ হাজার টাকা বাদে প্রতিদিন আলাদা করে বেড ভাড়া ছয় হাজার টাকা ও রুগীর দেখভালের জন্য আয়ার টাকা, ওষুধপত্র ও  চিকিৎসকের ফি, খাবার ও আরটিপিসিআর টেস্ট সহ বেশ কিছু শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা বাবদ আলাদা টাকা দিতে হবে। যুবতী অভিযোগ তাহলে এতগুলো টাকা কিসের জন্য জমা নিচ্ছে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যুবতী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন এমনকি রুগীকে ভর্তি করার পর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ আরও অর্থ নেওয়া হয়। এমনকি করোণা  রুগীর চিকিৎসার প্রাথমিক স্তর আরটিপিসিআর টেস্টের জন্য আরও ১৪০০টাকা নেওয়া হয়। তবে কি রিপোর্ট আসছে, রুগীর কি চিকিৎসা চলছে সে বিষয়ে কিছুই জানানো হচ্ছে না।


 চিকিৎসক বলছেন অক্সিজেন লাগছে কখনও কম কখনও বেশি।  তবে সাতদিন এই ধরনের রুগীদের সম্পূর্ণ পর্যবেক্ষনে রাখা দরকার। এই বিষয়ে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর এই বিষয়ে জানায় রুগী পরিজনের তরফে লিখিত অভিযোগ এলেই আমরা ব্যবস্থা নেবো। তবে যুবতী মন্তব্য আমাদের রুগী ওই হাসপাতালে রয়েছেন তাই আমরা তাদের ওপর নির্ভরশীল বলতে পারেন অসহায় । নার্সিংহোমে বিরুদ্ধে মুখ খুললেই গুরুতর অবস্থায় রুগীকে কোন রকম সহযোগিতা ছাড়াই বের করে দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও বাউন্সারের হুমকি দিচ্ছে এ ধরনের ঘটনা শিলিগুড়ি শহরে এই মুহূর্তে রোজেকের হয়ে গিয়েছে। যুবতীর মতই রুগীকে চিকিৎসা করাতে এসে অসহায় অবস্থায় মুখ বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে অনেককেই।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad