বন্য হিংস্র জন্তুর সাথে আধ ঘন্টার তুমুল লড়াই - Breaking Bangla |breakingbangla.com | Only breaking | Breaking Bengali News Portal From Kolkata |

Breaking

Post Top Ad

Friday, 21 May 2021

বন্য হিংস্র জন্তুর সাথে আধ ঘন্টার তুমুল লড়াই

 




 ছাগলের লোভে বাড়িতে হানা দিয়েছিল হিংস্র জন্তু । ছাগলকে না পেয়ে দরজা জানালা খুলে বাড়ির মধ্যে শুয়ে থাকা গৃহস্থকেই আক্রমণ করে বসে হিংস্র জন্তুটি । ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন গৃহস্থও । প্রায় আধ ঘন্টা ধরে দু পক্ষের মধ্যে চলে তুমুল লড়াই । শেষ অবধি রণে ভঙ্গ দিয়ে জঙ্গলে পালিয়ে যায় জন্তুটি । আক্রান্ত গৃহস্থ সহ স্থানীয়দের ধারণা জন্তুটি আসলে নেকড়ে বাঘ । যদিও বন দফতরের দাবি জন্তুটি নেকড়ে নয়, হায়না বা হুড়াল গোত্রের কোনো প্রানী হয়ে থাকতে পারে । ঘটনায় আহত গৃহস্থকে ভর্তি করা হয়েছে স্থানীয় হাসপাতালে । 


ঘটনাটি বাঁকুড়ার পাত্রসায়ের রেঞ্জের বাজিতপুর গ্রামের । স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে মঙ্গলবার রাতে তুমুল ঝড় বৃষ্টির পর পরিবারকে নিয়ে নিজের বাড়িতে শুয়েছিলেন বাঁকুড়ার পাত্রসায়ের রেঞ্জের বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ সরিফ উদ্দিন । ঝড় বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় গরম থেকে বাঁচতে ঘরের দরজা জানালা খোলাই রেখেছিলেন শেখ সরিফ উদ্দিন । বাড়ির এক কোনে বাঁধা ছিল একটি ছাগল । রাত সাড়ে দশটা নাগাদ আচমকাই ঘরের খোলা দরজা দিয়ে বড়সড় এক হিংস্র বন্য জন্তু ঢুকে পড়ে ঘরের মধ্যে । জন্তুটিকে দেখেই প্রবল চিৎকার করে গলার দড়ি ছিঁড়ে পালিয়ে যায় ছাগলটি । 


ছাগলকে না পেয়ে বন্য জন্তুটি আক্রমণ করে বসে ঘরের মধ্যে শুয়ে থাকা শেখ সরিফ উদ্দিনকে । নাছোড় সরিফ উদ্দিন ভয় না পেয়ে বন্য জন্তুর সাথে লড়াই চালিয়ে যান । স্থানীয়দের দাবি প্রায় আধ ঘন্টা ধরে চলে সে যুদ্ধ । এরপর একসময় বন্য জন্তুটি রণে ভঙ্গ দিয়ে যে পথে এসেছিল সে পথেই পালিয়ে যায় । স্থানীয়রা পরে আহত শেখ সরিফ উদ্দিনকে উদ্ধার করে স্থানীয় পাত্রসায়ের ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান । 


স্থানীয়দের দাবি জন্তুটি আসলে নেকড়ে বাঘ । আক্রান্ত শেখ সরিফ উদ্দিন বলেন, জন্তুটি নেকড়ে বাঘই ছিল । আমাকে আক্রমণ করলে আমি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করি । আর তাতেই জন্তুটির সাথে আমার লড়াই শুরু হয়ে যায় । ভাবিনি জন্তুটির কবল থেকে রক্ষা পাব । এদিকে এলাকায় নেকড়ে বাঘের হানার ঘটনা রটে যাওয়ায় গোটা এলাকা জুড়ে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক । বন দফতর অবশ্য জন্তুটিকে নেকড়ে বলতে নারাজ । 


পাত্রসায়ের রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার শিবপ্রসাদ সিংহ বলেন, এই এলাকায় অতীতে কখনো নেকড়ের দেখা মেলেনি । জন্তুটি হায়না বা হুড়াল জাতীয় কিছু হয়ে থাকতে পারে । এলাকার মানুষের ভয় কাটাতে প্রতিদিন পেট্রোলিং ও গ্রামবাসীদের তেল হুলা সরবরাহের ব্যবস্থা করেছি । পাশাপাশি আহত ব্যাক্তির চিকিৎসার সব রকম ব্যবস্থা করা হয়েছে ।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad